আমীর হোসেন আমু ১৪ দলের সমন্বয়ক ও মুখপাত্র

0
109

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও বর্ষীয়ান নেতা আমীর হোসেন আমুকে ক্ষমতাসীন জোট ১৪ দলের নতুন সমন্বয়ক ও মুখপাত্রের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। ১৪ দলের শীর্ষ নেতাদের মতামত নিয়ে আমুকে নতুন এই দায়িত্ব দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার এ তথ্য জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি নিজের সরকারি বাসভবন থেকে এক অনলাইন ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।

আমির হোসেন আমুর আগে ১৪ দলের সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম। তিনি মারা যাওয়ায় প্রবীণ রাজনীতিক আমুকে এই গুরু দায়িত্ব দেয়া হল।

অনলাইন ব্রিফিংয়ে ওবায়দুল কাদের জানান, ১৪ দলের শরীক নেতাদের সম্মতিক্রমে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমির হোসেন আমুকে এ দায়িত্ব দেন। আমু তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞা দিয়ে এ দায়িত্ব পালনে যথাযথ ভূমিকা রাখবেন বলে শেখ হাসিনা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বলে ওবায়দুল কাদের উল্লেখ করেন।

প্রসঙ্গত, ১৪ দলের সাবেক মুখপাত্র ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম মারা যাওয়ায় এ পদটি শূন্য হয়। এ জোটটির সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করা আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাজেদা চৌধুরী বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার কারণে খুব একটা সক্রিয় নন রাজনীতিতে।

দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন আমীর হোসেন আমুর জন্ম ১৯৪০ সালের ১ জানুয়ারি।

তিনি ১৯৬৫ সালে বরিশাল বিএম কলেজ থেকে বিএ এবং ১৯৬৮ সালে বরিশাল আইন মহাবিদ্যালয় থেকে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন।

আমু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭০ সালে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার পর আইন পেশায় নিয়োজিত হন।

আমু ছাত্রজীবন থেকেই সমাজতান্ত্রিক রাজনীতির সঙ্গে জরিত ছিলেন। ১৯৬৪ সালে তিনি জেলা ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৫ সালে আমু ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৭০ সালের প্রাদশিক পরিষদ নির্বাচনে তিনি বরিশাল সদর আসন থেকে জয়ী হন।

১৯৭২ সালে আমু যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডিয়াম সদস্য মনোনীত হন।১৯৭৮-১৯৮৬ সাল পর্যন্ত তিনি যুবলীগের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন।

পরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হন।তিনি দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ছিলেন। বর্তমানে তিনি আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সিনিয়র সদস্য।

২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।সরকারের শিল্প মন্ত্রীর দায়িত্ব পান।পরের নির্বাচনেও তিনি ঝালকাঠি থেকে জয়ী হন।